আমার গবেষণার জগতে আসার গল্পটা খুব সাধারণ, বলা যায় কিছুই না পারার হতাশা থেকেই এর শুরু। ছোটবেলায় আব্বা-মায়ের বেশ কড়া শাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। তাই মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করা বা অন্য দশটা বাচ্চার মতো দুরন্তপনার খুব একটা সুযোগ পাইনি। ফলে পড়াশোনার বাইরে স্পোর্টস বা অন্য কোনো কিছুতেই মোটামুটি এক্সপার্ট হয়ে ওঠা হয়নি। এর প্রভাবটা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও টের পেয়েছি। ক্যাম্পাসে যখন সবাই নানা কাজে বা আড্ডায় ব্যস্ত, আমাকে তখন এসবের ধারেকাছেও তেমন একটা দেখা যেত না।
সমস্যাটা বাধলো এই 'কিছুই না পারার' অনুভূতিটা নিয়ে। মাঝে মাঝেই মনে হতো আমি হয়তো কোনো কিছুর জন্যই ফিট না, আর এই ভাবনা থেকে হীনমন্যতায় ডুবে যেতাম। এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য পরে অবশ্য বেশ কিছু জিনিস ট্রাই করেছি। ছবি আঁকা থেকে শুরু করে মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো অনেক কিছুই শেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, কোনোটাই আমার ঠিক পছন্দ হতো না, আর না হয় সেগুলো চালিয়ে যাওয়ার মতো ধৈর্য আমার থাকতো না।
এরপর একরকম বাধ্য হয়েই ভাবলাম, আচ্ছা গবেষণা জিনিসটা শেখা যায় কিনা দেখি। সত্যি বলতে, একজন গবেষক হব এমন কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। শুধু মনে হতো, নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য কিছু একটা করা লাগবে, তাই এদিকে একটু সময় দিতাম।
তবে অবাক করার বিষয় হলো, কিছুদিন পর কাজটা আমার আসলেই ভালো লাগতে শুরু করলো। গবেষণা আর ডেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। আমি বুঝতে পারলাম, কোনো বিষয় নিয়ে নতুন নতুন ইনসাইট তৈরি করতে হলে গবেষণার আসলে কোনো বিকল্প নেই। এই আগ্রহ থেকে আমি আমার আশেপাশের মানুষজন, বিশেষ করে বন্ধু-বান্ধবীদের প্রতিদিনের কাজকর্ম, তাদের মুড বা আচরণের তথ্যগুলো খেয়াল রাখতে শুরু করলাম। সেই তথ্যগুলোর মধ্যে আমি প্যাটার্ন খুঁজতাম। এই কাজটা আমি এখনও করি। ব্যক্তির সাধারণ তথ্য নিয়ে এনালাইজ করে সেখান থেকে মজার কোনো ইনসাইট বের করার চেষ্টা করি।
কিন্তু এত কিছুর পরও আমার একটা বড় সমস্যা আছে। গবেষণার কাজ বা ডেটা এনালাইসিস নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করলেও, গবেষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে আমার ভেতরে এখনো কোনো ফ্যাসিনেশন কাজ করে না। আমার কাছে মনে হয়, ডেটা থেকে একটা ইনসাইট বের করতে পারলেই আমার কাজ শেষ, এই পর্যন্তই আমার কাছে ঠিক আছে। এরপর সেটাকে গুছিয়ে পাবলিকেশন করার ইচ্ছা আমার কখনো হয় না। সত্যি বলতে, প্রথাগত একাডেমিক গবেষণা আমার কখনোই পছন্দ না। কেন পছন্দ না, সেটারও অনেক কারণ আছে। তবে সেই গল্প নাহয় অন্য কোনোদিন বলা যাবে। তবে অনেকগুলো কারনের মধ্যে অন্যতম হলো আমি কখনোই পেপার-পেপার রেসে নিজেকে ফেলতে চাইনা। এখানে আমি যতটা না পেপারের জন্য গবেষণা শিখি তার থেকে বেশি শিখি নিজের শখ থেকে।
