সকাল ৬ টা বেজে ২৫ মিনিট। জানালার ওপাশেই একটা কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ। সদ্য রোদ এসে পড়াতে গাছটা যেন প্রাণ ফিরে পেলো। সবুজ মাঠের মাঝে লাল ফুল খুব একটা খারাপ কম্বিনেশন না।
অনেক সময় নিয়ে চেষ্টা করেছি ঘুমানোর। বদ অভ্যাস হয়ে গেছে। ইদানীং স্মৃতি কমে গেছে। চোখও কেমন যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। অথচ মাথার ভেতরে হাজার খানিক চিন্তার চলাফেরা। জীবন কেমন যেন একটা অসীম দৌড়ের মধ্যে চলে গিয়েছে।
পাশে মেহগুনি গাছের কচি পাতায় রোদ কেমন চিক চিক করছে। শরীরের এখন আর ঘুমানোর তাড়া নেই। বিকাল তিনটায় প্রোফেসরের সাথে মিটিং আছে। এখানে দিন রাত একাকার করে কোকিল ডাকে। অদ্ভুত লাগে কেমন যেন। অনবরত ডেকেই চলছে। আর আমি?
এখন একটু কিছুতেই টায়ার্ড হয়ে যাই। ক্লান্তি ভর করে মন ও শরীরে। দৃষ্টির সীমানা কমে গিয়ে ঠেকেছে মেহগুনি গাছে মগডালে। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় সব ছেড়ে একটা নিভৃতচারী জীবন পার করি। সেটা এখন আর খুব বেশি সম্ভব বলে মনে হয় না। শেকড় অনেক দূরে ছড়িয়ে গেছে। অথচ জীবন এত জটিল না করলে হতো বোধহয়।
আমার এখানে একটা থেকে চারটার মধ্যে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। হোক বৃষ্টি। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে যাক। সুনামি এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাক সব।