দুনিয়া দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে চিরচেনা সব হাওয়া। শুধু থেকে যাচ্ছে মৃত্যুপুরীর পোড়া গন্ধ। স্যাঁতসেঁতে কাদামাটিতে পোকামাকড় বাসা বেঁধেছে। বাধা বেঁধেছে আমাদের ভঙ্গুর মনে। পুরোনো রাস্তায় অন্ধকার। আকাশের সাদা মেঘে বিষ।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি এই বদলে যাওয়া কি সত্যিই বাইরে, নাকি আমার ভেতরেই কোথাও সবকিছু ভেঙে পড়ছে? আগে যেসব শব্দ আমাকে ছুঁয়ে যেত, এখন সেগুলো কেমন নিষ্প্রাণ লাগে। মানুষের মুখগুলোও যেন ধীরে ধীরে একরকম হয়ে যাচ্ছে। অপরিচিত, নির্লিপ্ত।
কখনো হঠাৎ মনে হয়, আমি যেন কোনো এক ভুল সময়ে আটকে গেছি। চারপাশে সবকিছু এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সময়ের বাইরে। এই শূন্যতার ভেতরে কোনো শব্দ নেই, কোনো প্রতিধ্বনি নেই। শুধু এক ধরনের ভারী নীরবতা, যা আমাকে ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে।
তবু কোথাও খুব গভীরে একটা ক্ষীণ অনুভূতি রয়ে গেছে। হয়তো এই প্রাচীরের ওপারেও কিছু আছে। হয়তো সব শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু সেই ‘হয়তো’ শব্দটাও এখন আর আগের মতো শক্তিশালী না। সেটাও কেমন ভেঙে পড়ছে।
